১০ নভেম্বরের সমাবেশের প্রেক্ষাপট, মৌলবাদীদের ক্ষোভ এবং রাষ্ট্রের নীরবতায় আমার প্রশ্ন,
১০ নভেম্বর
শব্দকে ফাঁসির মঞ্চে তোলা হলো ১০ নভেম্বর শুধু একটি তারিখ নয়।এটি সেই দিন, যেদিন আমি বুঝলাম—শব্দ কখনো কখনো এতটাই শক্তিশালী হয় যে তাকে থামাতে “ফাঁসি”র স্লোগান তুলতে হয়। সেদিন হেফাজতে ইসলাম এবং জামাতে মৌলবাদী গোষ্ঠীরা সমাবেশ করে আমার গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি তুলেছে।
একজন লেখকের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের দাবি—এটি ব্যক্তিগত ঘৃণা নয়; এটি একটি রাজনৈতিক বার্তা। বার্তাটি স্পষ্ট: “প্রশ্ন করো না।”আমি লিখেছিলাম—
বাংগুরা বাজারের নাচ–গান বন্ধের ফতোয়া নিয়ে।
১২ থেকে ১৪ বছরের কিশোরীদের বিয়ে নিয়ে ওঠা ফতোয়া নিয়ে।
নারীদের ও সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলার ।
ব্লগার হত্যা মামলার আসামিদের ধারাবাহিক জামিন নিয়ে।
উগ্রবাদের সাংস্কৃতিক দমননীতি নিয়ে।
এই লেখাগুলোই তাদের অস্বস্তি।কারণ এগুলো আক্রমণ নয়—উন্মোচন।ক্ষমতার অন্ধকারে আলো ধরলে যারা অস্বস্তিতে পড়ে, তারা যুক্তি আনে না; তারা শাস্তির ভাষা বেছে নেয়। হ্যাঁ, আমার নামে মামলা আছে।অভিযোগ আছে।কাগজে-কলমে আমাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।কিন্তু প্রশ্ন হলো—সেই অভিযোগ কি আইনের নিরপেক্ষ বিচারে টিকে থাকবে,নাকি সেটিও মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে আরেকটি চাপের কৌশল?
রাষ্ট্রের কাঠামোর ভেতরে যখন মামলা হয়, তখন অন্তত আইনের একটি পথ খোলা থাকে।কিন্তু রাস্তায় যখন “ফাঁসি”র দাবি ওঠে, তখন সেটি আইন নয়—ভয় দেখানোর রাজনীতি।১০ নভেম্বর সমাবেশে আমি উপস্থিত ছিলাম না।তবু আমার নাম ছিল স্লোগানের কেন্দ্রে।আমি যেন একজন নাগরিক নই, একজন লেখক নই—বরং একটি টার্গেট।আমার অপরাধ কী?আমি প্রশ্ন করেছি।আমি লিখেছি।আমি নীরব থাকিনি।যে মতাদর্শ প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না, সে নিজের দুর্বলতাই প্রকাশ করে।কারণ শক্তিশালী ধারণা কখনো “ফাঁসি” চায় না—সে বিতর্ক চায়, যুক্তি চায়।আজ আমার নামে মামলা থাকতে পারে।অভিযোগ থাকতে পারে।কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—চিন্তাকে অপরাধ বানানোর চেষ্টা শেষ পর্যন্ত চিন্তাকেই আরও দৃঢ় করে।
১০ নভেম্বর আমাকে ভয় দেখায়নি।বরং মনে করিয়ে দিয়েছে—লেখা এখনো প্রয়োজনীয়।প্রশ্ন এখনো শক্তিশালী।আর শব্দ এখনো এতটাই জীবন্ত যে তাকে ভয় পায় ক্ষমতার অন্ধকার।