সমকামিনী, সমকামী, উভকামী এবং হিজড়াদের অধিকার হচ্ছে একটি দেশের নাগরিকদেরকে দেওয়া একটি অধিকার যেটিতে সমকামিনী, সমকামী, উভকামী এবং হিজড়া ব্যক্তিবর্গদেরকে বিষমকামীদের মতই সুযোগ-সুবিধা যেমন স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করা, প্রেম করার অধিকার, বিয়ে করার অধিকার, সন্তান নেওয়ার অধিকার (দত্তক), বাসা ভাড়া/কেনার অধিকার, চাকরি করার অধিকার, সর্বোপরি এই ধরনের মানুষদেরকে সমাজের স্বাভাবিক কাতারে মিলিয়ে দেওয়াটাই হচ্ছে সমকামিনী, সমকামী, উভকামী এবং হিজড়াদের অধিকার।
উল্লেখ্য, ২০২১-এর হিসাব অনুযায়ী, ২৯টি দেশ সমলিঙ্গ বিবাহকে স্বীকৃতি দিয়েছে, এগুলো হল: আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ব্রাজিল, কানাডা, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডেনমার্ক, ইকুয়েডর, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন, সুইডেন, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং উরুগুয়ে।
বাংলাদেশে সমকামীদের অধিকার সমাজ, ধর্ম, সংবিধান ও আইন সমর্থিত কোনো বিষয় নয়। সমকামীরা তাদের যৌনঅভিমুখ গোপন রাখে এবং সমলিঙ্গীয় যৌনকর্ম সম্পূর্ণ অপ্রকাশ্য বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের মতো একটি রক্ষণশীল দেশে সমকামী অধিকার নিয়ে কাজ করাটা দুরূহ হলেও কিছু সংগঠন আছে যারা মানুষের সমকামের অধিকার বিষয়টি নিয়ে সক্রিয়। মূলত সমকামী হিসেবে কেউ আত্মপ্রকাশ করলে তাকে পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হতে হয়। বাংলাদেশে সমকামী অধিকারকর্মীদের হত্যার হুমকি পেতেও জানা যায়। বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যকার প্রেম মানানসই নয়; সমাজে কেবল দুইজন বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যে সম্মতিমূলক প্রেম এবং বিয়ে কিছুটা সমর্থিত যদিও এ-ক্ষেত্রেও অনেক সামাজিক এবং আইনি বাঁধা রয়েছে। সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যকার প্রেম একদমই সমর্থিত নয়, সম্মতি থাকলেও, ঠিক এই কারণে বাংলাদেশের মানুষরা তাদের সমকাম প্রবৃত্তি গোপন করেন আর প্রকাশ করলেও খুব কাছের বিশ্বস্ত মানুষের কাছে ছাড়া করেননা।
সমকামীতার ফলে জরিমান –
দেশের দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা মোতাবেক পায়ুমৈথুন তথা সমকাম শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ, যার শাস্তি দুই বছর থেকে শুরু করে দশ বছর কারাদণ্ড এবং উপরন্তু জরিমানাও আরোপযোগ্য।
মানুষ কেন তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে? কিসের কারণে? যার যার ব্যক্তিগত চাহিদার কোন মূল্য থাকবে না ? এটা কোন আইন?
আমার ব্যক্তিগত অপিনিয়ন,
বাংলাদেশের এই আইনের পরিবর্তন আনা হোক। সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রত্যেকটা মানুষেরই as a human being প্রত্যেকটা মানুষের পছন্দ কে গুরুত্ব দিতে হবে। এ রকম আইন কোনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফাস্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোর দিকে তাকালে অনেক সহজেই বুঝা যায়। তারা কি কোন ভাবে অনুন্নত ? ব্যাপারটা মোটেও এরকম নয়। আমাদের human right এর উপর অনেক জোর দিতে হবে। বাংলাদেশের এরকম অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং অসংগতিপূর্ণ আইন থাকা যাবে না। প্রত্যেকটা মানুষের অধিকার এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে।