একটি গুলি, একটি জীবন: বাংলাদেশী মৌলবাদীর হাতে হিন্দু নাগরিকের মৃত্যুর নীরব আর্তনাদ

বাংলাদেশে হিন্দু নাগরিক বজেন্দ্র বিশ্বাসের গুলিবিদ্ধ মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, কোনো “ব্যক্তিগত বিরোধ”ও নয়। এটি একটি পরিচিত প্যাটার্নের আরেকটি পরিণতি– যেখানে ইসলামী মৌলবাদ সমাজকে বিষাক্ত করে তুলছে, আর রাষ্ট্র প্রতিবারের মতো নির্লজ্জভাবে চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

যে রাষ্ট্র বারবার বলে, “ঘটনা বিচ্ছিন্ন”, সে রাষ্ট্র আসলে একটাই কথা বলছে—

👉 সংখ্যালঘু মরলে কিছু আসে–যায় না।

🧨 সত্যটা বলতেই হবে: এই সহিংসতার শিকড় ইসলামী মৌলবাদে

বাংলাদেশে আজ কাউকে হত্যা করতে আর প্রকাশ্যে “জিহাদ” ডাকতে হয় না।

মৌলবাদ এখন আরও পরিশীলিত—

•ওয়াজে ঘৃণার বীজ বপন

•সোশ্যাল মিডিয়ায় উসকানি

•“ধর্মে আঘাত” নামের অজুহাত

•আর প্রশাসনের নতজানু নীরবতা

এই পরিবেশেই মানুষ শিখে নেয়—❝ সংখ্যালঘু হলে তোমার জীবন কম দামের ❞

এটা কাকতাল নয়। এটা আইডিওলজিক্যাল সহিংসতা।

⚠️ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অপরাধ: কাপুরুষতা

রাষ্ট্র যদি শক্ত হতো, তাহলে—

-মৌলবাদী বক্তাদের আগেই থামানো হতো

– ঘৃণামূলক বক্তব্যকে “মত প্রকাশ” বলা হতো না

-আর প্রতিটি সংখ্যালঘু হত্যাকে জাতীয় সংকট ধরা হতো

কিন্তু বাস্তবতা কী?

👉 মৌলবাদীরা “সংবেদনশীল”

👉 সংখ্যালঘুরা “পরিসংখ্যান”

👉 আর বিচার ব্যবস্থা “ধীর”

এই সমীকরণে বজেন্দ্র বিশ্বাসের মৃত্যু অনিবার্য ছিল।

❗ যারা বলে “এটা ধর্মীয় নয়”—তারা মিথ্যাবাদী

যখন বারবার—

•হিন্দুদের ঘর পোড়ে

•হিন্দুদের পেটানো হয়

•হিন্দুদের পুড়িয়ে মারা হয়

•হিন্দুদের গুলি করা হয়

তখন এটা আর কাকতালীয় অপরাধ থাকে না।

এটা হয় টার্গেটেড ভায়োলেন্স

আর যে সমাজ সেটা মানতে চায় না, সে সমাজ নিজেই সমস্যার অংশ।

🩸 মৌলবাদ কেবল হিন্দুদের মারছে না—এটা বাংলাদেশকেও হত্যা করছে

আজ টার্গেট হিন্দু।

কাল টার্গেট ভিন্নমতাবলম্বী মুসলমান।

পরশু টার্গেট নারী, লেখক, সাংবাদিক।

ইতিহাস বলে—

👉 মৌলবাদ কখনো থামে না

👉 সে শুধু শিকার বদলায়

বজেন্দ্র বিশ্বাসের রক্ত আসলে সতর্কবার্তা

🧠 ইসলাম বনাম মৌলবাদ—পার্থক্য না বুঝলে সর্বনাশ অনিবার্য

এই লেখা ইসলামবিরোধী নয়

এই লেখা মৌলবাদবিরোধী

কারণ—

•ইসলাম ন্যায় বিচারের কথা বলে

•মৌলবাদ ক্ষমতার কথা বলে

•ইসলাম মানবতার কথা বলে

•মৌলবাদ শত্রু তৈরি করে

যে সমাজ এই পার্থক্য স্পষ্ট করে না, সে সমাজ আগুন নিয়ে খেলে।

✍️ শেষ কথা: নীরবতা মানেই সহযোগিতা

আজ যারা চুপ, তারা নিরপেক্ষ নয়।তারা ইতিহাসের ভুল পাশে দাঁড়িয়ে আছে।

বজেন্দ্র বিশ্বাসকে যারা হত্যা করেছে—তারা শুধু ট্রিগার টেনেছে।

কিন্তু যারা মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিয়েছে,যারা “বিচ্ছিন্ন ঘটনা” বলে দায় এড়িয়েছে,যারা ভোট আর আবেগের ভয়ে চুপ থেকেছে—

👉 তারাই এই হত্যার নৈতিক সহঅপরাধী।

বাংলাদেশ যদি সত্যিই বাঁচতে চায়,তাহলে একটাই পথ—

🟥 ইসলামী মৌলবাদের সঙ্গে আপস নয়

🟥 ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা

🟥 সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা রাষ্ট্রের শর্তহীন দায়িত্ব

এর কম কিছু মানেই—

আরও বজেন্দ্র বিশ্বাস,

আরও রক্ত,

আরও লজ্জা।

✊ শেষ ঘোষণা

আজ বজেন্দ্র বিশ্বাস।

আগামীকাল নাম বদলাবে।

রক্তের রঙ বদলাবে না।

যদি এখনো আমরা না বলি—

👉ইসলামী মৌলবাদ এই দেশের শত্রু , তবে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

এটি কোনো মতামত নয়।

👉 এটি একটি অবস্থান।

👉 এটি একটি ঘোষণা।

👉 এটি একটি সতর্কবার্তা।

ইসলামী মৌলবাদ বহুত্ববাদের শত্রু। টার্গেটেড সহিংসতা গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপরাধ । সংখ্যালঘু অধিকার রাষ্ট্রের নৈতিক মানদণ্ড।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *